ব্লগ কি?কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।(What is a blog)

ব্লগ কি(What is a blog) ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম :-ফ্রেন্ডস আমরা অনেকেই ইন্টারনেটে বহু লেখা-লিখি পড়েথাকি,সেইগুলি কি?এবং সেই লেখকরা কিভাবে আয় করেন সেইসব বিষয়ে জানতে আগ্রহী হলে পোস্টি ভালোকরে পড়ুন।এখানে আমরা ব্লগ বা ব্লগিং কি,ব্লগের মানে কি ও ব্লগ লিখে কিভাবে আয় করা যায় সেই বিষয়ে জানবো।

ব্লগ কি

বন্ধুগণ,ব্লগিং হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে কিছু লেখক তাদের নলেজ বা জ্ঞান গোটা পৃথিবীর মধ্যে শেয়ার করেন।

সেরকম দর্শকরা সেই নলেজকে গ্রহণ করতে বিভিন্ন ব্লগ ও ওয়েবসাইট ভিসিট করেন।

এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে নলেজকে ইন্টারনেটে শেয়ার করে টাকা ইনকাম করা যায়।হ্যাঁ,বেশিরভাগ মানুষের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ইন্টারনেট থেকে নলেজ গ্রহণ করার স্থান।

কিন্তু আপনার যদি নলেজ থাকে এবং সেই জ্ঞানকে এই প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করে একটি স্বনির্ভর ক্যারিয়ার স্থাপন  করতে পারবেন।

হ্যাঁ তবে blog লেখালেখি করার আগে এই প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা থাকা প্রয়োজন।তবেই আপনি ব্লগ লিখে সফল ও সেই ব্লগ পাবলিকের মধ্যে পিরচিতি পাবে।

মোবাইলে থেকে ইনকাম –

ফ্রেন্ডস,আপনার যদি blog লেখালেখি বা তৈরি করার আগ্রহ থাকে তাহলে-

ব্লগ বলতে কি বোঝায়, ব্লগ কিভাবে বানাতে হয়, ব্লগ থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম হয়? এইসব বিষয়গুলি উপর পুরোপুরি জ্ঞান বা knowledge রাখতে হবে।

বন্ধুগণ,এই আর্টিকেলে আজকে ব্লগ কি বা কাকে বলে,ব্লগ থেকে কিভাবে অনলাইন আয় করা যায় এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব।

তাহলে চলুন দেরি না করে এই বিষয় গুলি সম্পর্কে আমরা জেনেনি।

ব্লগ কি বা ব্লগ বলতে কি বোঝায়?(What is a blog)

ব্লগ হচ্ছে একটি অনলাইন জার্নাল বা তথ্য ওয়েবসাইট যেখানে টেক্সট,ইমাজে,ও অন্যান্য অবজেক্টের তালিকা সময়ানুক্রমিক ভাবে প্রদান করে,এবং সেই তথ্য গুলি সর্বশেষ পোস্ট আকারে প্লাটফর্মে শীর্ষ স্থানে উপস্থিত থাকে।

ব্লগিং হচ্ছে কেউ যদি কোন নির্দিষ্ট একটি ফিল্ড বা সাবজেক্টের উপর ভালো জ্ঞান রাখেন,এবং সেই সাবজেক্টের উপর ভিত্তি করে লেখা-লিখি করে সেই জ্ঞান পাবলিকের সঙ্গে অনলাইনে শেয়ার করা হচ্ছে ব্লগিং।

ব্লগিং হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে যেকোন বিষয়ের উপরআর্টিকেল লিখা যাই।

আপনার এডুকেশন,টেক,নিউস,কুকিং,ট্রাভেল,জোকস,storiesযেকোনো বিষয়ের উপর জ্ঞান থাকলে তার উপর ব্লগ লিখে পাবলিকের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।

হ্যাঁ তবে ব্লগের মধ্যে কোনো জিনিস লিখে পাবলিশ করলে হবে না ,সেই ব্লগে আর্টিকেল গুলি ইউনিক ও অরজিনাল কনটেন্ট হতে হবে,

ফলে দর্শকরা সেই লেখালেখি উপর আকৃষ্ট হয়ে ও বাড়ে বাড়ে সেই ব্লগ ভিসিট করবে।

ব্লগিং এর প্রকারভেদ

ফ্রেন্ডস, ব্লগিং শুরু করার আগে ব্লগিং কয় ধরনের হয় ও এর প্রকারভেদ গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া দরকার। 

আপনি কোন ফিল্ডে এক্সপার্ট ও কোন বিষয়ের উপর ভালো নলেজ রাখেন এবং কোন ধরনের ব্লগিংশুরু করতে চান?

এছাড়া এই প্লাটফর্মকে আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, না নিজের নলেজ কে অনলাইনে শেয়ার করার জন্য একটি প্লাটফর্ম খুঁজছেন এই বিষয় গুলি চিন্তাভাবনা করে নিতে হবে।

ব্লগিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে আপনাকে যেকোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে উপর ব্লগিং শুরু করতে হয়।

কারণ সেই ওয়েবসাইটে বা ব্লগের মধ্যে অন্যকোন ক্যাটাগরির ব্লগ লেখালেখি করতে পারবেন না।

ব্লগ হচ্ছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য আলাদা ওপেন করতে হয়।

আপনি যদি একটি কুকিং সম্পর্কে ব্লগ ওপেন করেন তাহলে সেখানে টেকনোলজি সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখতে পারবেন না।সেই ব্লগে শুধু কুকিং সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখতে হবে।

ব্লগিং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বলতে হলে এটি সাত প্রকারের ভাগ করা হয় –

  1. পার্সোনাল ব্লগিং
  2. বিজনেস ব্লগিং
  3. প্রফেশনাল ব্লগিং
  4. নিচে ব্লগিং
  5. রিভার্স ব্লগিং
  6. অ্যাফিলিয়েট ব্লগিং
  7. মিডিয়া ব্লগিং

এই সাতটি ক্যাটাগরিরতে ব্লগিং কে প্রকার ভেদ করে নেওয়া হয়েছে। এখানে আপনাদের এই উপদেশ দিব আপনি প্রথমবার ব্লগ শুরু করতে চাইলে নিজের একটি পার্সোনাল ব্লগ ফ্রি থেকেই শুরু করুন।

আরো পড়ুন –

ব্লগিং শুরু করতে কি কি দরকার পড়ে:-

ব্লগিং শুরু করতে হলে কিছু জিনিসের দরকার পড়বে,প্রথমত কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সঙ্গে ভাল ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে।

টাইপিং এর জন্য একটি ভালো কিবোর্ড থাকলে ভালো হয়। সেই সঙ্গে আপনার টাইপিং এর একটু নলেজ থাকলে দ্রুত টাইপিং করতে পারবেন।

এছাড়া আপনি যে বিষয়ের উপর লেখালেখি শুরু করবেন সেই বিষয় সম্পর্কিত ভালো নলেজ,জ্ঞান ও রিসার্চ করার পর আর্টিকেল লেখা শুরু করুন।

ব্লগের মধ্যে visitors কিভাবে আসে।

সাধারণত নতুন ব্লগের ভিজিটর বা দর্শক সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা প্রবেশ করে।

কোন ইউজার প্রথমে google.com/yahoo.com/bing.com এই সার্চ ইঞ্জিন গুলির মধ্যে কোন একটা বিষয় নিয়ে সার্চ করে।

উদাহরণস্বরূপ-“ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম “ এই অনুসন্ধানটি দর্শকেরা সার্চ ইঞ্জিন এর মধ্যে টাইপ করলো এবার সেই সার্চ ইঞ্জিন যেমন google.com ইন্টারনেট এর মধ্যে

যে ওয়েব সাইটগুলি ওই বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখেছে সেই ব্লগ গুলি সার্চ রেজাল্ট এর মধ্যে show করবে।

এবার ইউজাররা রেজাল্ট এর মধ্যে শো করা ব্লগ বা ওয়েবসাইট গুলির মধ্যে প্রবেশ করে।

এছাড়া ইউটিউব,ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপস থেকে দর্শক ব্লগ গুলির মধ্যে ভিসিট করে।

ফ্রেন্ডস, ব্লগ খুব পপুলার হয়ে গেলে একটা পার্মানেন্ট ইউজার বেস তৈরি হয়ে যায়।তখন দর্শকরা ডাইরেক ওই ব্লগের নাম সার্চ করে তার মধ্যে ভিসিট করে।

অবশ্যই ওই পর্যায়ে পৌঁছাতে গেলে ব্লগকে একটু সময় লাগে।তবে অ্যাডমিন যদি ব্লগের উপর নিয়মিত টাইম দেই,তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্লগের পরিচিতি ও দর্শকের সংখ্যাও দুটোই বাড়তে থাকবে।

আর ব্লগের যত পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে দর্শকের ভিড় ততো বাড়বে। দর্শকের ভিড় বাড়লে সেই ব্লগের উপার্জন বেশি হবে।

আমরা নিচে ব্লগ থেকে আরনিং করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তার আগে ব্লগ কিভাবে তৈরি করতে হয় সেটি জেনে নি।

একটি ফ্রি ব্লগ কিভাবে তৈরী করবেন।

বন্ধুগণ,অনেকেই প্রথমবার ব্লগ শুরু করার চিন্তা করছেন,তাই সেখানে কোন ইনভেস্ট না করে এই প্লাটফর্মে একটি ব্লগ বানিয়ে টেস্টিংকরতে পড়েন।

সেইক্ষেত্রে একটি ফ্রি ব্লগ ওপেন করা সবথেকে বুদ্ধি জনক কাজ হবে।

ফ্রেন্ডস ইন্টারনেট এরমধ্যে কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে ফ্রিতে ব্লগ তৈরি করে এই প্লাটফর্মে পা রাখতে পারেন।

WordPress blog” ও অন্যটি হলো “Free blogger blog

ওয়াডপ্রেস ব্লগ হচ্ছে সবকিছু আপনাকে নিজে করতে হয় এছাড়া এখানে অল্প পরিমান পয়সা খরচ হবে যথা ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় করার জন্য।

কিন্তু ফ্রী ব্লগার এর মধ্যে সবকিছুই ফ্রীতে উপলব্ধি করতে পারবেন। এটি গুগলের একটি প্রোডাক্ট তাই এখানে ইউসার রা সম্পূর্ণ ফ্রীতে একটি পূর্ণ ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

এখানে কোনো ডোমেইন ও হোস্টিং গুগল ফ্রীতে উপলব্ধি করাই।

ফ্রেন্ডস ,এই পোস্টে আমরা কিভাবে একটি ফ্রী ব্লগ তৈরি করে ব্লগিং প্লাটফর্মে পা রাখবেন সেই সম্পর্কে গাইড দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Free blogger blog :-ফ্রেন্ডস, আপনারা নিশ্চই ব্লগার এর সম্পর্কে শুনিছেন,blogger হচ্ছে গুগলের একটি প্রোডাক্ট যেখানে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্লগ ওপেন করা যায়।

ব্লগার এর মধ্যে ব্লগ ওপেন করতে হলে আপনার জিমেইল বা গুগল অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

আশাকরি আপনাদের সবার পার্সোনাল জিমেইল অ্যাকাউন্ট আছে,কারণ blogger এর মধ্যে জিমেইল id ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করতে হয়।

ফ্রেন্ডস আপনি যদি গুগল/জিমেইল একাউন্ট কিভাবে তৈরি হয় সে সম্পর্কে না জানলে সেই বিষয়ে বিস্তারিত পোস্ট লেখা আছে,সেটি পড়ে একটি জিমেইল একাউন্ট খুলেনিন।

লিংক- জেনেনিন কিভাবে মোবাইলে Gmail account খুলবেন?

জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে গুগলে গিয়ে blogger.com লিখে সার্চ করুন।

Blogger.com ওয়েবসাইট ওপেন হলে হোমপেজে “Create Your blog” লেখা আছেআছে ওখানে ক্লিক করুন।

এবার আপনাকে নিজের গুগোল একাউন্টে সাইন ইন করে নিতে হবে।

আপনার যদি একের অধিক gamil একাউন্ট থাকে তাহলে যে জিমেইল id থেকে ব্লগ অ্যাক্সেস করতে চান সেটি থেকে সাইনিং হয়ে যান।

এবার blogger এরমধ্যে লগইন হলে,ওখানে একাউন্ট  “setup page”দেখতে পাবেন। সেখানে আপনি ব্লগের নাম চুষ করেনিয়ে ব্লগ setup করে নিন।

তারপর ব্লগ এর একটি এড্রেস বেছে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ-techjaman.blogspot .

ব্লগের এড্রেস টাইপ করার পর ব্লগারের প্রোফাইল ডিসপ্লে নাম বসিয়ে দিন।

ফ্রেন্ডস এবার Blogger.com এর মধ্যে একটি ফ্রি ব্লগ তৈরী হয়ে গেছে,এবার আপনাকে শুধু পোস্ট লিখে সেগুলি পাবলিশ করতে হবে।

ফ্রেন্ডস,উপরে আপনি আপনাদের Blogger.com এর মধ্যে ব্লগ তৈরী করার একটা বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

আশা করি আপনারা উপরে বলা প্রসেস ফলো করে ফ্রি ব্লগ ওপেন করতে সক্ষম হবেন।

পরবর্তীতে অন্য একটি আর্টিকেল কিভাবে পোস্ট লিখবেন,কিভাবে অনলাইনে সেটি পাবলিশ করবেন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এবার ফ্রেন্ডস ফ্রি ব্লগ তৈরী প্রসেস সম্পর্কে জানলাম,কিন্তু ব্লগ থেকে আয় করার উপায় কি ?সে সম্পর্কে একটু জেনে নিন।

কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা আয় করা যায় ?

ফ্রেন্ডস, একটি ফ্রী Blogger.com বা যেকোনো ব্লগ থেকে আপনি বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে আমরা ব্লগ থেকে আর্নিং করা তিনটি সেরা মাধ্যম সম্পর্কে জানবো।ব্লগার বা ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ৩টি সেরা উপায় গুলি হলো-

  1. Google Adsense
  2. Affiliate marketing
  3. Promotion

ফ্রেন্ডস,ব্লগে একটু দর্শকের ভিড় বাললে উপরে তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি পদ্ধতিতে বা একত্রে ভালো পরিমাণ টাকা আর্নিং করতে পারবেন।

নিচে আমরা এই ৩ টি আর্নিং মেথড সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেবো।

1-Google Adsense(গুগল এডসেন্স)

গুগল এডসেন্স হচ্ছে ব্লগ থেকে আর্নিং করার সবথেকে ভালো উপায়।দেশে-বিদেশের বহু ব্লগাররা অ্যাডসেন্স থেকে মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছেন।

গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগোল এর একটি নিজস্ব অ্যাড প্রোগ্রাম।যেটি ওয়েবসাইট ও ব্লগের নানান স্থানে অ্যাড ডিসপ্লে করে ব্লগারদের টাকা ইনকাম করার সুযোগ দেই।

দর্শকরা ওয়েবসাইট বা ব্লগ ভিজিট করলে সেই অ্যাড গুলি ক্লিক করার পরিবর্তে গুগোল সেই ব্লগারদের কিছু পরিমাণ পয়সা দেই।

আপনি ওয়েবসাইট এর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ads ডিসপ্লে করতে পারেন।যেমন-image ads,video ads,text ads,link ads.

তবে আপনি ব্লগে কোন ধরনের এড ডিসপ্লে করবেন সেটা আপনার কনট্রোল থাকবে।

আর এই ঝামেলাই না থাকতে চাইলে গুগোল অটো অ্যাড ডিসপ্লে করে পুরোপুরি অটোমেটিক কন্ট্রোল করা যায়।

ফ্রেন্ডস,ব্লগের মধ্যে যখন লোকেরা আর্টিকেল পড়তে আসবে,তখন ওই অ্যাড গুলোতে ক্লিক করলে আপনার এডসেন্স একাউন্টে কিছু পরিমাণ পয়সা আর্নিং হবে।

এই আর্নিং যখন একটু একটু হয় 100 ডলারে পোঁছাবে,তখন অ্যাডসেন্স আপনাকে সেই টাকা ব্যাংকে ট্রানস্ফার করে দিবে।

গুগল এডসেন্স হচ্ছে একটি বিশ্বস্ত অ্যাড নেটওয়ার্ক,বিশ্বজুড়ে বহু ব্লগাররা এডসেন্স এর উপর নির্ভর করে আর্নিং করে থাকেন।

বন্ধুগণ গুগল এডসেন্স থেকে আনলিমিডেট আর্ন করা যায়, কিন্তু তারজন্য ব্লগে প্রচুর ভিজিটর আনতে হবে।

ব্লগে যত দর্শক বাড়বে আপনার আর্নিং তত বেশি হবে।

তাই নিজের ব্লগে দর্শকের পরিসংখ্যা বাড়াতে গেলে আপনাকে ভালো ভালো অথেন্টিক আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে।

তাহলে সেই আর্টিকেল গুলি গুগোল সার্চ রেজাল্টে আসবে এবং অটোমেটিকলি আপনার ব্লগের দর্শকের ভিড় বাড়বে।

2-Affiliate Marketing (অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং)

বন্ধুগণ বর্তমানে অধিকাংশ ব্লগাররা গুগল অ্যাডসেন্স এর পরিবর্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আর্নিং করতে বেশি পছন্দ করে।

এটি হচ্ছে এমন প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে নিজের ব্লগ থেকে এডসেন্স সমপরিমাণ বা তার বেশি আনিং হতে পারে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ব্লগ থেকে আরনিং করার আরেকটি সহজ মাধ্যম।তাই প্রথমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে একটু জেনেনি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি – এই মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কোম্পানি বা কোনো বিশিষ্ট ব্যাক্তির সঙ্গে জড়িত হয়ে তার এক বা একাধিক প্রোডাক্ট আপনি যদি নিজের ব্লগে বা অন্য প্লাটফর্মে কিছু টাকার বিনিময়ে প্রচার করেন তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

এখানে আপনার ব্লগ থেকে কোন গ্রাহক বা কোন ভিজিটর সেই প্রচার থেকে কোন কিছু ক্রয় করে তাহলে সেই কোম্পানি বা ব্যক্তি আপনাকে তার পরিবর্তে কিছু কমিশন দেয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনি এক বা একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত হতে পারেন,সমগ্র বিশ্বে ছোট-বড় বহুকোম্পানি এই মার্কেটিং প্রোগ্রাম এর সঙ্গে জড়িত।

ইন্ডিয়াতে বহু নামকরা কোম্পানি আছে যেগুলোর সঙ্গে আপনি কাজ করতে পারেন। আমি নিচে কয়েকটি লিংক দিয়েছি ।

এই মার্কেটিং প্রোগ্রমে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম আছে যেখানে একজন ব্লগার হিসেবে সেই অনলাইন স্টোর গুলির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম join করতে পারেন।

তাদের প্রোডাক্ট নিজের ব্লগে প্রমোট করে সেখান থেকে আর্নিং হয়।

উদাহরণস্বরূপ-আপনি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন হলেন,এবার অ্যামাজন থেকে কোন ব্যাক্তি একটি মোবাইল বা ল্যাপটপ আপনার ব্লগে দেওয়া এফিলিয়েট লিংক ক্রয় করলো।

যেহেতু সেই ব্যাক্তি আপনার ব্লগে দেওয়া অ্যাড/লিংক থেকে ক্রয় করেছে তাই অ্যামাজন আপনাকে তার কিছু commission দিবে ।

এভাবে ব্লগে শেয়ার করা অ্যাফিলিয়েট লিংক বা অ্যাড দেখে ভিজিটররা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুলি থেকে থেকে কিছু প্রোডাক্ট ক্রয় করলে তার কমিশন আপনি পাবেন।

এই প্ল্যাটফর্ম দ্বারা আপনি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম দ্বারা আনলিমিটেড টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

নিচে কয়েকটি অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এর লিংক দেওয়া হল যাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ জয়েন হতে পারেন।

ই-কমার্স অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম –amazon,flipkart,vcommission,makemytrip affiliate,ebay affiliate

3-product promote (প্রোডাক্ট প্রমোশন)

আমরা উপরে গুগল এডসেন্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দ্বারা ব্লগ থেকে আরনিং সম্পর্কে জানলাম। এবার এছাড়াও আরেকটি মাধ্যম আছে যার সাহায্যে ব্লগ থেকে আর্নিং করা যায়,সেটি হচ্ছে লোকাল প্রোডাক্ট প্রমোট করা।

ফ্রেন্ডস আপনার ব্লগের ট্রাফিক বা ভিজিটর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে লোকাল এরিয়ার যেসব বিজনেস ও কোম্পানি গুলো আছে তাদের অ্যাড গুলি নিজের ব্লগে ডিসপ্লে করতে পারেন।

আপনার আশেপাশে যে বিজনেস বা কোম্পানি গুলো আছে তাদের ইমেইল বা ফোন নাম্বার দ্বারা যোগাযোগ করুন।

আপনার ব্লগে অ্যাড দেওয়ার পরিবর্তে তারা কিরকম টাকা অফার করে সেগুলি ব্লগ পপুলার,ব্লগে ট্রাফিক বা দর্শক কোথাকার,ব্লগ কি বিষয়ে নানান বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

আপনি কোনো লোকাল কোম্পানি বা বিজনেসকে ব্লগের স্পেস একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দিবেন।

তার পরিবর্তে সেই কোম্পানি আপনাকে কত পরিমান টাকা পে করবে সেটি নির্ধারিত করে নিতে হয়।

লোকাল বিজনেস থেকে শুরু করে ছোটখাটো কোম্পানির সবাই এই ব্লগে ডাইরেক advertisement দিয়ে থাকে।

ফলে তাদের লোকাল এরিয়ার মধ্যে জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ও অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্ক এর তুলনাই অনেক খরচ কম হয়।

তাই,ফ্রেন্ডস আপনি যদি কয়েকটা কোম্পানি বা বিজনেস এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাহলে ব্লগে অ্যাড এর অফার পেতে বেশি সময় লাগবে না।

আরও পড়ুন-

আমাদের শেষ কথা –

ফ্রেন্ডস,আজ এখানে কিভাবে ফ্রি ব্লগ তৈরি করবেন ও কিভাবে সেখান থেকে আর্নিং করা যায় সেই সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

আপনারা যদি ব্লগ থেকে আর্নিং করার প্রসেস সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অনলাইন ইনকাম এই ক্যাটাগরিরতে দেওয়া আর্টিকেল গুলি পড়তে পারেন।

এখানে ব্লগ ও ওয়েবসাইট থেকে আরনিং করার বিভিন্ন পন্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই পোস্টে শুধু ব্লগ কি ও ফ্রিতে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

আপনাদের যদি এই পোস্টটি ভাল লাগে,তাহলে এটি বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতি দের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

শেষে এটাই বলবো,কোন কিছু প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে নিচে অবশই কমেন্ট করুন।ধন্যবাদ

error: Content is protected !!
Share via
Copy link